মোঃ আরাফাত সানি, টেকনাফ
অবশেষে টেকনাফের অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে মাঠে নামলো স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলার সকল লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ছাবের।
আজ (১২ অক্টোবর) সোমবার সকালে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইনডোর-আউটডোর, মহিলা ওয়ার্ড সহ পৌর শহরে অবস্থিত বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সিভিল সার্জন বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেছি। যাদের কাগজপত্রে ত্রুটি আছে তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো হবে। শুধু লাইসেন্স নয়, ওইসব ক্লিনিকে কর্মরত সকল ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ানের সনদও যাচাই করা হবে। তারা দক্ষ ও যোগ্যতা সম্পন্ন কিনা এবং হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “টেকনাফে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এসব প্রতিষ্ঠানে ভুয়া ডাক্তার ও অদক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভুল রিপোর্ট ও ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছে।”
সিভিল সার্জন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইতিমধ্যে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। যাদের বৈধ লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র ও দক্ষ জনবল নেই, সেগুলো সিলগালা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ পৌরসভা, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, বাহারছড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় ২৫টিরও বেশি অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক গড়ে উঠেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল হাসান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ এনামুল হক সহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সবৃন্দ।
সিভিল সার্জনের এই উদ্যোগে টেকনাফের সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
